ঢাকা ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মিঠাপুকুরে চাঞ্চল্যকর খুন ও ডাকাতির মামলার আসামী গ্রেফতার, রংপুর পুলিশ সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন রংপুরে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ে শ্রমিকনেতাদের সাথে মতবিনিময় সভা পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে কোরবানীর পশুর হাট, আইন-শৃঙ্খলা বিষায়ক মতবিনিময় সভা আগামী ১১ মে রংপুর  শ্যামাসুন্দরী খাল পুনরজ্জীবন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নকরণ করা হবে। পীরগাছা উপজেলা অন্নদানগর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রংপুরে মিঠাপুকুর সমিতির ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রংপুরে ঈদের কেনাকাটা করে ফেরার পথে বাস কেড়ে নিল ৩ জনের প্রাণ। রংপুর চেম্বার অব কর্মাসের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল মিঠাপুকুর উদ্দীপনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত রংপুরে হাট ইজারা দরপত্র ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই পেনশন চালু করছি’ প্রধানমন্ত্রী

বাবলুর রহমান বারী
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৩ ৫৬৭ বার পড়া হয়েছে

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আমরা সর্বজনীন পেনশন চালু করছি।

বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শোকের মাসেই আমরা এই পেনশন স্কিম উদ্বোধন করছি। কারণ আমার পিতা হয়তো দেখবেন। তিনি খুশি হবেন। তার প্রিয় দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আমরা সর্বজনীন পেনশন চালু করছি। এতে তাদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা থাকবে। কারও কাছে হাত পাততে হবে না।’

তিনি আরো বলেন,‘জাতির পিতার হত্যার পর দেশের অবস্থা এমন করা হয়েছে, না ছিল ভোটের অধিকার, না ছিল ভাতের অধিকার। আমরা সে অবস্থার পরিবর্তন করতে চেয়েছি। সে লক্ষ্যে, কাজ করছি। মনে রাখতে হবে, জাতির পিতা যে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, সেটা যাতে ব্যর্থতায় পর্যবসিত না হয়।’

আমরা এই পেনশন স্কিম উদ্বোধন করছি। কারণ আমার পিতা হয়তো দেখবেন। তিনি খুশি হবেন। তার প্রিয় দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আমরা সর্বজনীন পেনশন চালু করছি। এতে তাদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা থাকবে। কারও কাছে হাত পাততে হবে না। তিনি বলেন,‘জাতির পিতার হত্যার পর দেশের অবস্থা এমন করা হয়েছে, না ছিল ভোটের অধিকার, না ছিল ভাতের অধিকার। আমরা সে অবস্থার পরিবর্তন করতে চেয়েছি। সে লক্ষ্যে, কাজ করছি। মনে রাখতে হবে, জাতির পিতা যে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, সেটা যাতে ব্যর্থতায় পর্যবসিত না হয় সরকারপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের ওপর দিয়ে অনেক ঝড় বয়ে গেছে। একদিকে করোনা অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এরই মধ্যে মিলিটারি ডিক্টেটরদের হাতে গড়া দলের ধ্বংসযজ্ঞ। এসব মোকাবিলা করে দেশ এগিয়ে নিচ্ছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য ও অতিদারিদ্র্য দূরীকরণ, সামাজিক নিরাপত্তাসহ সব খাতে সেবা দিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ‘বাবা-মা-ভাই সবই তো হারিয়েছি। আমার তো কেউ নাই। ১৯৮১ সালে দেশে এসে কাউকে তো দেখিনি, যারা আমায় বিদায় দিয়েছে। কিন্তু আমি পেয়েছি, এই দেশের মানুষকে আমার পাশে। আমি মনে করি, এই দেশের মানুষই আমার আপনজন। এদেশের প্রতিটি মানুষের জীবনকে অর্থবহ করে তাদের জীবনমান উন্নত করতে চাই। আমার বাবারও এটিই লক্ষ্য ছিল। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশে^র হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন,এইচ এন আশিকুর রহমান এমপি,রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা,পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী।

জানা গেছে, সর্বজনীন পেনশনে রয়েছে ৪টি স্কিম। প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রবাস স্কিম। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের প্রগতি স্কিম। স্বকর্মে নিয়োজিত নাগরিকদের জন্য সুরক্ষা স্কিম। স্বকর্মে নিয়োজিত স্বল্প আয়ের নাগরিকদের জন্য সমতা স্কিম।

জানা গেছে, প্রথম দিন থেকেই চারটি স্কিমের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকরা। এসব স্কিমে যুক্ত হয়ে বেসরকারি খাতের কর্মচারী বা প্রবাসীরা পেনশন হিসেবে পাবেন তাদের মোট চাঁদার চেয়ে সর্বনিম্ন দুই দশমিক ৩০ গুণ থেকে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৩১ গুণ অর্থ।

সরকার প্রথমে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের জন্য পেনশন চালুর ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে বয়সের বিষয়টি শিথিল করে ৫০ পার হওয়া ব্যক্তিদেরও এর আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়। সরকার বয়স্ক নাগরিকদের জন্য একটি টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করতে যাচ্ছে। তবে, আজীবন বা ন্যূনতম ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পেতে কমপক্ষে ১০ বছর নির্দিষ্ট হারে চাঁদা পরিশোধ করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই পেনশন চালু করছি’ প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৩

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আমরা সর্বজনীন পেনশন চালু করছি।

বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শোকের মাসেই আমরা এই পেনশন স্কিম উদ্বোধন করছি। কারণ আমার পিতা হয়তো দেখবেন। তিনি খুশি হবেন। তার প্রিয় দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আমরা সর্বজনীন পেনশন চালু করছি। এতে তাদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা থাকবে। কারও কাছে হাত পাততে হবে না।’

তিনি আরো বলেন,‘জাতির পিতার হত্যার পর দেশের অবস্থা এমন করা হয়েছে, না ছিল ভোটের অধিকার, না ছিল ভাতের অধিকার। আমরা সে অবস্থার পরিবর্তন করতে চেয়েছি। সে লক্ষ্যে, কাজ করছি। মনে রাখতে হবে, জাতির পিতা যে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, সেটা যাতে ব্যর্থতায় পর্যবসিত না হয়।’

আমরা এই পেনশন স্কিম উদ্বোধন করছি। কারণ আমার পিতা হয়তো দেখবেন। তিনি খুশি হবেন। তার প্রিয় দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আমরা সর্বজনীন পেনশন চালু করছি। এতে তাদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা থাকবে। কারও কাছে হাত পাততে হবে না। তিনি বলেন,‘জাতির পিতার হত্যার পর দেশের অবস্থা এমন করা হয়েছে, না ছিল ভোটের অধিকার, না ছিল ভাতের অধিকার। আমরা সে অবস্থার পরিবর্তন করতে চেয়েছি। সে লক্ষ্যে, কাজ করছি। মনে রাখতে হবে, জাতির পিতা যে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, সেটা যাতে ব্যর্থতায় পর্যবসিত না হয় সরকারপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের ওপর দিয়ে অনেক ঝড় বয়ে গেছে। একদিকে করোনা অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এরই মধ্যে মিলিটারি ডিক্টেটরদের হাতে গড়া দলের ধ্বংসযজ্ঞ। এসব মোকাবিলা করে দেশ এগিয়ে নিচ্ছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য ও অতিদারিদ্র্য দূরীকরণ, সামাজিক নিরাপত্তাসহ সব খাতে সেবা দিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ‘বাবা-মা-ভাই সবই তো হারিয়েছি। আমার তো কেউ নাই। ১৯৮১ সালে দেশে এসে কাউকে তো দেখিনি, যারা আমায় বিদায় দিয়েছে। কিন্তু আমি পেয়েছি, এই দেশের মানুষকে আমার পাশে। আমি মনে করি, এই দেশের মানুষই আমার আপনজন। এদেশের প্রতিটি মানুষের জীবনকে অর্থবহ করে তাদের জীবনমান উন্নত করতে চাই। আমার বাবারও এটিই লক্ষ্য ছিল। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশে^র হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন,এইচ এন আশিকুর রহমান এমপি,রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা,পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী।

জানা গেছে, সর্বজনীন পেনশনে রয়েছে ৪টি স্কিম। প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রবাস স্কিম। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের প্রগতি স্কিম। স্বকর্মে নিয়োজিত নাগরিকদের জন্য সুরক্ষা স্কিম। স্বকর্মে নিয়োজিত স্বল্প আয়ের নাগরিকদের জন্য সমতা স্কিম।

জানা গেছে, প্রথম দিন থেকেই চারটি স্কিমের মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকরা। এসব স্কিমে যুক্ত হয়ে বেসরকারি খাতের কর্মচারী বা প্রবাসীরা পেনশন হিসেবে পাবেন তাদের মোট চাঁদার চেয়ে সর্বনিম্ন দুই দশমিক ৩০ গুণ থেকে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৩১ গুণ অর্থ।

সরকার প্রথমে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের জন্য পেনশন চালুর ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে বয়সের বিষয়টি শিথিল করে ৫০ পার হওয়া ব্যক্তিদেরও এর আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়। সরকার বয়স্ক নাগরিকদের জন্য একটি টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করতে যাচ্ছে। তবে, আজীবন বা ন্যূনতম ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পেতে কমপক্ষে ১০ বছর নির্দিষ্ট হারে চাঁদা পরিশোধ করতে হবে।