অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে আজ ‘জুলাই গণঅভ্যূত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’, ‘জুলাই গণঅভ্যূত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ এবং ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’সহ মোট ২৪টি বিল পাস হয়েছে। এগুলোর মধ্যে সকালের অধিবেশনে ১০টি বিল পাস হয়েছে।
আজকের পাস হওয়া ২৪টিসহ চলতি অধিবেশনে এ পর্যন্ত ৯১টি বিল পাস হয়েছে বলে জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের আজ ১৩তম দিনের সকালের অধিবেশনে উত্থাপিত বিলগুলোর ওপর দফাওয়ারী কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে সর্বসম্মতিক্রমে সেগুলো পাস হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম।
অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদের বিশেষ কমিটি ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে এবং ১৫টি সংশোধনসহ পাসের সুপারিশ করে। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার সুপারিশ করা হয়।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল, ২০২৬’; ‘বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল, ২০২৬’; অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’; ‘এক্সাইজেস এন্ড সল্ট বিল, ২০২৬’; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; অর্থ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর বিল, ২০২৬’; শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, ২০২৬’ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ‘জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল, ২০২৬’ ও ‘সাইবার সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান ‘জুলাই গণঅভ্যূত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং বিলগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং বিলগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’ সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করার প্রস্তাব করলে ঢাকা-১২ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন বিলটি উত্থাপনের বিরোধীতা করে বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বিষয়টি ভোটে দেন। পরে কন্ঠভোটে জনমত যাচাই প্রস্তাবটি নাকচ হয় এবং বিলটি পাস হয়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করলে মাদারীপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য আনিছুর রহমান এই বিলের ওপর তিনটি সংশোধন প্রস্তাব করেন। পরে স্পিকার তার সংশোধনীগুলো গ্রহণ করেন। পরে বিলটি সংসদে স্থিরকৃত আকারে পাস হয়।
আজকের অধিবেশনে সর্বশেষ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কন্ঠভোটে পাস হয়।
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ২৫ নারী সাংবাদিকদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নির্বাচন রিপোর্টিং বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) এবং সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর মিডিয়া ইন ডেভেলপমেন্ট (সাকমিড)-এর যৌথ উদ্যোগে রাজশাহীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে এতে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত অংশগ্রহণকারী নারী সাংবাদিকরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। শনিবার বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সুজান ভাইজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হোসেন বকুল, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জান্নাতুল জাহান।
তিন দিন ব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্থানীয় ক্ষমতার কাঠামো, শাসনব্যবস্থা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে রিপোর্টিং; নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা; এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই ও তথ্যের অখণ্ডতা বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী নারী সাংবাদিকরা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল, তথ্যনির্ভর ও পেশাদার সাংবাদিকতা চর্চায় সক্ষম হবেন বলে প্রত্যাশা করেন আয়োজকরা।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. মাহফুজ-উন-নবী ডন বলেছেন, তিস্তা কখনো এই অঞ্চলের মানুষকে শুকিয়ে মারে, কখনো বন্যার পানিতে ডুবিয়ে মারে। শত শত একর জমি পানিতে তলিয়ে যায়। কৃষকরা শস্য আবাদ করতে পারেন না। পাশর্^বর্তী দেশ আন্তর্জাতিক নদীর আইন অমান্য করে আমাদের ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করছে। এই ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আমাদের সোচ্চার থাকতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২এপ্রিল) দুপুরে রংপুর টাউন হল মিলনায়তনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রীন ভয়েস আয়োজিত পরিবেশ সম্মেলনের প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাড. মাহফুজ-উন-নবী ডন বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশ-প্রকৃতি রক্ষায় খাল খনন কর্মসূচী শুরু করেছে। রংপুর নগরীর ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খালের পাশাপাশি কেডি খাল, ইছামতি খালসহ বেশ কয়েকটি খাল রয়েছে। এসব খালের সংস্কারে ৬ মাস থেকে শুরু করে দুই বছর মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ শুন্য থাকায় এখনই কোন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অচিরেই সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করা হবে। গ্রীন ভয়েস রংপুর বিভাগের সমন্বয়ক রবিউল ইসলাম রুবেলর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, রিভারাইন পিপলের পরিচালক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা’র জেলা আহ্বায়ক অ্যাড. শিরিন, উদীচী শিল্পগোষ্ঠির সভাপতি শাশ^ত ভট্টাচার্য, গ্রীন ভয়েসের প্রধান সমন্বয়ক আলমগীর কবিরসহ অন্যরা। এ সময় উত্তরের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও রংপুর নগরীর শ্যামাসুন্দরী খালে প্রাণ ফেরাতে নানা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে গ্রীণ ভয়েসের রংপুর বিভাগের ৮ জেলার স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।
রংপুর মহানগরীর কোতয়ালী থানাধীন পার্বতীপুর ঈদগাহ মাঠ এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক কিশোরীসহ পরিবারের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মরহুম
ফসিমুদ্দিন এর ওয়ারিশ সুত্রে ১একর ৩৭ শতক জমি কোকিলা বেগম ও সাফিয়া বেগম ভোগ দখল করে আসছে। সম্প্রতি গত ১৯ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পূর্বশত্রুতার জেরে একই এলাকার বাসিন্দা মনতাজ মিয়ার ছেলে সজীব ও হাবিব মিয়ার ছেলে রহিম মিয়া এবং মৃত খয়বার মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াসহ অভিযুক্ত ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে লাঠি, রড ও জিআই পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগীদের বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
এ সময় বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। এতে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী গুরুতর আহত হয়, তার পায়ে আঘাত লেগে হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন গুরুত্বর আহত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের মারধরের পাশাপাশি শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটায়। এক পর্যায়ে তারা ঘরের টিনের বেড়া ও চালা ভেঙে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং নগদ অর্থ ও টিন লুট করে নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন প্রতিবেদককে জানান দীর্ঘ কয়েকযুগ
ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছে। তাদের প্রতিপক্ষের লোকজন ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে গোপনে অন্য লোকের কাছে জমি হস্তান্তর করেন। কথিত ওই ক্রেতা সহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাদের বসতবাড়িতে এই হামলা চালায়। ভুক্তভোগীরা আরো বলেন, এঘটনায় থানায় কয়েক দফায় থানায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ প্রশাসন অভিযোগগুলো আমলে না নিয়ে উল্টো তাদের রোষানলে পড়ে অজ্ঞাত কারণে ঝিমিয়ে গেছে। এসময় তারা পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে অভিযুক্তরা এঘটনায় মুখ খুলতে অনিহা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, দুই পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেছেন, এবং উভয়পক্ষের অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে হামলা ও গাছ কর্তনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মোঃ আঃ রাজ্জাক (৫৪) এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২০ মার্চ ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে একই এলাকার আবুল মিয়ার ছেলে বাপ্পি, রোস্তম মিয়ার ছেলে হাবিবুর, সাহেব আলীর ছেলে তুহিন এবং মৃত আকবর আলীর ছেলে সবুজ ও হালিমসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন মিলে সংঘবদ্ধভাবে তার বাড়ির পূর্ব পাশের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে। এ সময় তারা ৪টি কাঁঠাল গাছ, ২টি আমগাছ ও ৩টি সজনার গাছ কেটে ফেলে, যাতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাজ্জাক জানান, গাছ কাটায় বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে তাকে মারধরের চেষ্টা করে। প্রাণভয়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ফাঁসানোসহ মারধর ও উচ্ছেদের হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার সময় আশপাশের কয়েকজন, যার মধ্যে মোঃ ওয়াদুদ মিয়া (২৪) ও মোঃ আবু বক্কর (৩২) রয়েছেন, ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের প্রশ্রয়ে এ ধরনের দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটছে। তবে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রংপুরে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় রংপুর জেলা মডেল মসজিদে ঈদের প্রধান জামাতে নামাজ আদায় করেন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. মাহফুজ উন নবী ডন, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ফজলে খোদা মোঃ নাজির, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মুসল্লীরা। প্রধান জামাতে ইমামতি করেন, কেরামতিয়া জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা বায়েজিদ হোসাইন। ঈদের খুতবা শেষে দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি কামনাসহ মুসলিম দেশের উপর সকল প্রকার দমন, নিপীড়ন, নির্যাতন বন্ধে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে রংপুর পুলিশ লাইন্স মাঠে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। রংপুর নগরী ছাড়াও প্রধান জামাতের সময়ের সাথে সংঙ্গতি রেখে গঙ্গাচড়া, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, সদর, পীরগাছা, কাউনিয়া, মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ উপজেলাতে ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীর সড়ক বিভাজকগুলোতে ঈদ মোবারক লেখা পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার হাসপাতাল, কারাগার ও এতিমখানাতে উন্নত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
“আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রংপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস–২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
রোববার (১৬ মার্চ) সকালে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করা হয়। পরে সেখানে নারী দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সোস্যাল ইক্যুআলিটি ফর ইফেকটিভ ডেভেলপমেন্ট (সীড), জেএসকেএস, বিজিএস, ডিপুক, আফাদ, সোসাইটি ফর উদ্যোগ, মানসিকা ও পল্লী শ্রী’র যৌথ আয়োজনে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ক্রিশ্চিয়ান এইডের আর্থিক সহযোগিতায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে রেজিনা সাফরীনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) রোকসানা বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সিভিল জজ ও লিগ্যাল এইড অফিসার তালমা প্রধান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক অনিল চন্দ্র বর্মন, যুব উন্নয়নের উপপরিচালক আব্দুল ফারুক এবং জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সেলোয়ারা বেগম। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি, নারী নেত্রী এবং আট জেলার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রোকসানা বেগম বলেন, “আজ নারী হিসেবে আমি গর্বিত যে আমরা সমাজে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পেরেছি। নারীরা অনেক সময় মায়ের গর্ভ থেকেই বৈষম্যের শিকার হয়। তবুও নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে নারীরা আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরিবার ও সমাজের সহযোগিতাই নারীদের এগিয়ে যেতে শক্তি জোগায়।”
সোস্যাল ইক্যুআলিটি ফর ইফেকটিভ ডেভেলপমেন্ট (সীড)-এর নির্বাহী পরিচালক সারথী রাণী সাহা বলেন, নারী দিবস কেবল একটি দিবস নয়; এটি নারীদের দীর্ঘ সংগ্রাম, অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং সামাজিক অগ্রগতির প্রতীক। নারীর প্রতি সম্মান ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুললে সমাজে বৈষম্য কমবে এবং নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের জন্য নারী ও কন্যাশিশুর সুরক্ষা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সুশাসন জোরদারের মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
শেষে ডিপুক রংপুরের প্রধান নির্বাহীর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
রংপুরে পুলিশের পৃথক অভিযানে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি, জুয়া, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীসহ ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার বিকেলে নগরীর হাজীরহাট বখতিয়ারপুর উচাটারী গ্রামস্থ ঘাঘট নদীর পাড়ে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযানে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও বিভিন্ন মামলার আরও ১০ আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বিভিন্ন পরিক্ষা কেন্দ্রে অভিযান পরিচালনা করে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরা হলো, রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার ফকিরহাট রামেশ্বরপুর ফকিরহাটের রফিক মন্ডলের ছেলে সারোয়ার ইসলাম (৩০), পীরগাছা দেউতি বাজারের চাঁন মিয়ার ছেলে আল আমিন মোহাম্মদ আহাদ (৩৪), পীরগঞ্জের জাহাঙ্গীরাবাদ আসমতপুর এলাকার খাজা নাজিম উদ্দিনের ছেলে মেজবাহ হামিদুল্লাহ প্রধান (২৯), পীরগঞ্জ কাদিরাবাদে এনামুল হকের ছেলে রাশেদুল ইসলাম রকি (২৮), পাবনার ছাইকোলা দীঘল গ্রামের বারেক আলীর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস বীথি (২৬)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৫টি ডিভাইস, ৫টি স্মার্টফোন, ২টি ফিচার ফোন, ১৩টি সিম কার্ড, ২৬টি এয়ারপড, এয়ারপড প্লেসমেন্টের জন্য ব্যবহৃত ১টি ফরসেপ, ৬টি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, স্বাক্ষরিত ২টি ফাঁকা চেক এবং ২টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ বলে জানিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী
দল-মতের উর্ধ্বে থেকে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সকল নাগরিকের সেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নব-নিযুক্ত প্রশাসক ও মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব অ্যাড. মাহফুজ-উন-নব চৌধুরী। সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের যোগদান করে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে কুশল বিনিয়মসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। নবনিযুক্ত প্রশাসক রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বাজেট বৈষম্য নিরসন, যানজট নিরসন, শ্যামাসুন্দরী খালের সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন, বজ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নসহ নগরীর সমস্যা নিরসনে কাজ করার কথা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসানসহ অন্যরা।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী বলেন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সমস্যা নিরসনে পুরো নগরবাসীর সহযোগিতা চাই। আমি একটি দল করলেও নগরবাসী হিসেবে প্রতিটি মানুষের সেবা নিশ্চিত করা হবে। রংপুর সিটি কর্পোরেশন বাজেট বৈষম্যের শিকার। আমি সচিবালয়ে গিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে দেখা করেছি এবং বাজেট নিয়ে কথা বলেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বাজেট বৈষম্য দূর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শ্যামাসুন্দরী খাল রংপুর নগরীর ফুসফুস। এ খাল সংস্কারে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে উন্নত করতে হবে। বজ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নসহ নগরীর যে সব সমস্যা রয়েছে তা সমাধানে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব।
সংগঠনকে গতিশীল করার অঙ্গীকার নিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) বাদ আসর শাহী মসজিদ সংলগ্ন স্টেশন রোড কার্যালয়ে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিক সদস্যরা মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মীর আনোয়ার আলী মিঠু। দোয়া পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বাবলুর রহমান বারী। দোয়া মাহফিলে সংগঠনের উন্নতি, সদস্যদের ঐক্য ও দেশের গণমাধ্যমের কল্যাণ কামনা করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল হালিম, সহ-সভাপতি রেখা মনি ও ইয়াছিন আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান পরাগ, কোষাধ্যক্ষ সেলিম মাহমুদ, দফতর সম্পাদক উমর ফারুখ, সাহিত্য সম্পাদক সম্পাদক রিয়াজুল হক সাগর, ক্রীড়া সম্পাদক সানোয়ারুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য সাজ্জাদ বীন সৌরভসহ সংগঠনের অন্যান্য সাংবাদিক সদস্যরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে হবে। পাশাপাশি মফস্বল সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা, পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার চর্চা বাড়াতে সংগঠনের ভূমিকা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক দাবানল পত্রিকার চিফ রিপোর্টার আহসান হাবিব মিলন সংগঠনকে কিভাবে আরও সুসংগঠিত, গতিশীল ও প্রাণবন্ত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা যায় সে বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। তিনি সদস্যদের মধ্যে ঐক্য, নিয়মিত সভা-সেমিনার, প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সামাজিক কার্যক্রম বৃদ্ধির মাধ্যমে সংগঠনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
পরিশেষে দোয়া ও ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।