রংপুরে নিখোঁজের একদিন পর শিশু সানজিদার (৯) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুন) বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির অদূরে পাটক্ষেত থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। সানজিদা তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর কেরানীপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে। সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তারাগঞ্জ থানার ওসি রুহুল আমিন।
তিনি স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া সানজিদাকে শুক্রবার দুপুর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করে। সানজিদাকে ফিরে পেতে রাতে মাইকিংও করা হয়। শনিবার সকাল ১১টার দিকে মাঠে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের্^ ডালিয়া সেচ ক্যানেলের ধারে পাট ক্ষেতে ওই শিশুর লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশটি উদ্ধার করে। সানজিদার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর-দুরান্ত থেকে লোকজন ঘটনাস্থল ও সানজিদার বাড়িতে ভিড় করছে।
তারাগঞ্জ থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, সানজিদার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে তার চোখ দুটি দাবানো ছিল।
লালমনিরহাট সদর উপজেলায় জমি-জমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক গৃহবধূ ওমহিলাসহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের নামা খুনিয়াগাছ গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। আহতদের অবস্থায় গুরুতর হওয়ায় ঔ দিন উপজেলা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে লালমনিরহাট সদর নামা খুনিয়াগাছ গ্রামের আজিুল ইসলাম,আমিনুর রহমান, হাবিবুর রহমান,গোলাম রব্বানী,আঃরউফ মিয়া,আফিয়ার রহমান,শফিয়ার রহমান,মমিনুর রহমান,আমিনুর মিয়া,মৃত মোজাহার আলীর বাড়িতে হামলা চালায়।


এলাকাবাসী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতরা হলেন- রেজাউল করিম,তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম, তার বৃদ্ধ মা রেজিয়া খাতুন,ছোট ভাই আঃ কুদ্দুস তার স্ত্রী রোজোয়ানা বেগম.তাদের আশঙ্কাজনক রেজাউল,তার রেজিয়া খাতুন,ছোট ভায়ের স্ত্রী রেজোয়ানাসহ ৪জন। এছাড়া বেশ কয়েকজন হামলার শিকার হয়েছেন।
এই ঘটনায় থানায় একটি এজাহার দেয়া হয়েছে এজাহারে বলা হয়, মৃত মোজাহার আলীর ছেলেরা তার বাবার কবলাকৃত সম্পত্তিতে বাড়িঘর করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। ওই জমির উপর কাল্পনিক দাবিদার সেজে নানা সময় জবর দখল চেষ্টাসহ হুমকি ধমকি দিয়ে হয়রানি করে আসছে একই এলাকার আজিুল ইসলাম,আমিনুর রহমান, হাবিবুর রহমান,গোলাম রব্বানী,আঃরউফ মিয়া,আফিয়ার রহমান,শফিয়ার রহমান,মমিনুর রহমান,আমিনুর মিয়ারা ও তার লোকজন। বৃহস্পতিবার বিকেল রেজাউল করিম তার স্ত্রী বাড়িতে বেড়া দিচ্ছিলেন। পুর্বের জমিজমা সংক্রান্ত মামলার জের ধরে বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে লালমনিরহাট সদর নামা খুনিয়াগাছ আজিজুল ইসলাম আমিনুর রহমার ও তার লোকজন লোহার রড, দা, ছোরা,শাবল ও লাঠিসোটা নিয়ে হুমকি ধমকিসহ গালাগালি করতে থাকে। রেজাউল গালমন্দ করতে নিষেধ করলে তারা একযোগে বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়।
এজাহারে আরও বলা হয়, রেজাউলকে এলোপাতাড়ি মাথায় কোপাতে থাকলে এসময় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপরও হামলা চালিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এব্যাপারে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহাম্মেদ এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা করা হলে তিনি বলেন, এই ঘটনা আমার জানা নেই থানায় অভিযোগ হয়েছে কিনা দেখতে হবে।
রংপুর সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ ফরহাদ হোসেনের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন দুপুরে রংপুর সদর উপজেলা পরিষদে নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে কেল্লাবন্দ সিও বাজার এলাকার মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মোঃ লাল বাবু (৪৫) ও অজ্ঞাত আরও দুই ব্যক্তি তার অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা তাকে গালিগালাজ ও সরকারি কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ফরহাদ হোসেনের অভিযোগ, তাদের আচরণের প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে বাম কানে আঘাত পেয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং অধ্যক্ষ আব্দুল গণি পৃথক বিবৃতিতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মোঃ নাজমুল কাদের বলেন, কোতয়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
হিমাগার ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে রাস্তায় আলু ফেলে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচী পালন করেছে আলু চাষীরা। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে নগরীর মডার্ণ মোড় তুলা গবেষণা কেন্দ্রের সামনে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে শত শত আলু চাষী। সেখানে মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচীতে আলু চাষী আজিজার রহমান, মজিবর মিয়া, আনারুল ইসলামসহ অন্যরা জানান, চলতি বছর আলুর উৎপাদন খরচ বেশি এবং বাজারে আলুর দাম না পাওয়ায় ব্যাপক লোকসানে পড়েছে চাষীরা। এ বছর ২৪ শতক জমিতে আলু উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। এতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার কেজি আলু উৎপাদন হয়েছে। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৩ টাকা ৩৩ পয়সা। আলু উত্তোলন ও পরিবহনে খরচ কেজি প্রতি ১ টাকা। আলু সংরক্ষণে হিমাগার ভাড়া দ্বিগুন করে বস্তাপ্রতি ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে হিমাগার মালিকরা। এতে করে প্রতি কেজি আলুতে হিমাগার খরচ ৬টাকা ৯৮ পয়সা পড়ে। সবমিলে এক কেজি আলুর দাম পড়ে ২৪ টাকা। অথচ বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে। ফলে প্রতি কেজি আলুতে ৭ টাকা ৫০ পয়সা করে ক্ষতির মুখে পড়ছে চাষীরা। তাই আলু সংরক্ষণে হিমাগার ভাড়া আড়াইশ থেকে সর্বোচ্চ ৩’শ টাকা করতে আন্দোলনে নামতে হয়েছে। হিমাগার মালিকদের সিন্ডিকেট চাইছে কৃষকের আলু বাড়িতে পঁচে যাক, আর সরকারের বদনাম হোক।
চাষীরা আরও জানান, উত্তরাঞ্চলে দেশের সবচেয়ে বেশি আলুর উৎপাদন হয়। তাই হিমাগার মালিকরা যোগসাজশ করে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে হিমাগার ভাড়া বাড়িয়েছে। অথচ দেশের অন্য বিভাগে হিমাগার ভাড়া স্বাভাবিক রয়েছে। হিমাগার মালিকরা একতরফা ভাবে ভাড়া বৃদ্ধি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এ সময় মহাসড়কে আলু ফেলে প্রতিবাদ জানায় চাষীরা। এদিকে আলু চাষীদের ঘন্টাব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচীর কারণে রংপুর বিভাগের ৭ জেলার সাথে ঢাকার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার দু’ধারে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
রংপুরে ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে সুজন মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরীর ৩২নং ওয়ার্ডের তামপাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সুজন আজিজুল্ল্যাহ মুন্সিপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। বুধবার (১৭ জুন) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাজহাট থানার ওসি আতাউর রহমান।
তিনি স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, গেল কয়েকদিন ধরে রংপুরে তীব্র লোডশেডিং শুরু হয়েছে। বিদ্যুতের সরবরাহ না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সুজন তামপাটের নির্জন স্থানের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার চুরি করার চেষ্টা করে। এ সময় বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে সে ঘটনাস্থলে মারা যায়। সকালে স্থানীয়রা বৈদ্যুতিক খুঁটির সামনে সুজনের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
তাজহাট থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
রংপুর নগরীতে থুথু ফেলা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মো. শাওন (২৫) নামে এক দোকান কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দোকান মালিকের ছেলের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ৯টার দিকে নগরীর খামার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শাওন দীর্ঘ চার বছর ধরে ওই এলাকার একটি পুড়ি-পিয়াজুর দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনু (৩০)কে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বর্তমানে তাকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে দোকান থেকে বাইরে বের হলে মনু পেছন থেকে শাওনকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় শাওন রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, মনু দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন এবং ওঝার মাধ্যমে তার চিকিৎসা চলছিল।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনু বলেছেন, দোকানের থালা-বাসন ধোয়ার স্থানে শাওন বারবার থুথু ফেলতেন। নিষেধ করার পরও তা অব্যাহত থাকায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি শাওনকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে এখন পর্যন্ত মনুকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মিঠাপুকুরে মিশুক ছিনতাই চেষ্টাকালে নারী সদস্য আটক,
নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুরের মিঠাপুকুরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি অটো ও মিশুক ছিনতাইকারী চক্রের এক নারী সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। রোববার (১৪ জুন) রাতে উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের কয়েরমারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন এক মিশুক চালক।
আটক নারী হলেন উপজেলার আলীপুর নয়ারহাট গ্রামের লোকমান হোসেনের স্ত্রী আপি বেগম (২৬)। গুরুতর আহত মিশুক চালক আক্তার হোসেন (৩৮) বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আক্তার হোসেন সন্ধ্যায় বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সেরুডাঙ্গা বাজার থেকে আপি বেগমসহ তিন যাত্রীকে নিয়ে বালারহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে কয়েরমারী গ্রামের উল্লাগাড়ী পাথারের বটগাছ এলাকায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। তিনি প্রতিরোধের চেষ্টা করলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, ঘাড় ও বাম হাতের আঙুলে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়।
চালকের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ধাওয়া দেয়। প্রায় ৪০০ গজ দূরে ছিনতাই হওয়া মিশুকসহ আপি বেগমকে আটক করা হলেও তার দুই সহযোগী আশরাফুল ইসলাম (৩৩) ও রিয়াদ (২৩) পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ ধারণা করছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অটো ও মিশুক ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর মিঠাপুকুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটক নারীকে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে, গত কয়েক মাসে উপজেলায় ধারাবাহিক অটো ও মিশুক ছিনতাইয়ের ঘটনায় চালকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। স্থানীয় চালকদের দাবি, পুলিশের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও চক্রটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। নারী সদস্য আটকের ঘটনায় চালক ও যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ আহমেদ জানান, আটক নারীকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে এবং দ্রুতই চক্রের অন্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হবে।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীরহাটে ব্র্যাক সীড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে “টেকসই, নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন” শীর্ষক একদিনব্যাপী কৃষি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আয়োজিত কর্মশালায় বিশিষ্ট কীটনাশক ও বীজ ব্যবসায়ী মেসার্স মুবিন ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী মোঃ রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সীডের রিজিওনাল ম্যানেজার (রংপুর)মোঃ রশিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মনিটরিং অ্যান্ড কোয়ালিটি ম্যানেজার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল ইসলাম এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোসফেকুর রহমান মিষ্টি।
কর্মশালায় বীজ ডিলার, বিভিন্ন সবজি চাষী কৃষক ৫৫ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন। তারা মাঠপর্যায়ের কৃষি কার্যক্রমের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি বলেন, উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, বায়োপেস্টিসাইড, সুষম সার ব্যবহার এবং কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ব্র্যাক সীডের গবেষণাভিত্তিক উন্নত জাতের বীজ, স্বল্প জীবনকালের হাইব্রিড ধানের সম্ভাবনা এবং ‘ব্র্যাক হাইব্রিড ধান-১০’-এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন করা হয়।
বক্তারা বলেন, কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে এ ধরনের কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শেষে পেস্টিসাইড ব্যবহার করে সফল সবজি চাষী ও কৃষকদের মাঝে পুরুষ্কার বিতরন করা হয়।
বাবলুর রহমান বারী রংপুর ###১১/০৬/২০২৬
রংপুরে ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা প্রদানসহ ৬ দফা দাবীতে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে কর্মসূচী পালিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন, ইন্টার্ণ ডক্টরস সোসাইটি রংপুর মেডিকেল কলেজের সভাপতি সাদমান মির মিরাজ, সাধারণ সম্পাদক নাঈম
শাহরিয়ার, কোষাধ্যক্ষ আবু বক্করসহ অন্যরা।
কর্মসূচীতে বক্তারা বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ণ চিকিৎসকরা ২৪ ঘন্টা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। অথচ তাদের যে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে, তা বর্তমান উর্ধ্বগতির বাজারের সাথে সামঞ্জ্যপূর্ণ না। ফলে পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা কিংবা সংসার চালাতে ইন্টার্ণদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই ইন্টার্ণদের ৩০ হাজার টাকা এবং এফপিসিএস ট্রেইনিদের ৫০ হাজার টাকা ভাতা প্রদানের দাবী জানানো হয়েছে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে প্রায়ই বিনাকারণে চিকিৎসকদের হামলার শিকার হতে হচ্ছে। তাই হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
রংপুর মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ণ ডক্টরস সোসাইটি সভাপতি সাদমান মির মিরাজ বলেন, বর্তমান সরকারের ফার্স্ট লেডি একজন চিকিৎসক। তাই সরকার প্রধান চিকিৎসকদের মূল্যায়ন করবেন প্রত্যাশা করছি। আজ ঢাকাস্থ মেডিকেল কলেজগুলোর ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের সাথে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলোচনায় বসবেন। সেখানে ফলপ্রসূ আলোচনা হলে আমরা কর্মবিরতি তুলে নেব।
তিনি বলেন, রংপুর বিভাগের ৮ জেলা থেকে রোগীরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসে। আমরা চাই না আমাদের কোন কর্মসূচীর কারণে তারা ভোগান্তিতে পড়ুক। দাবী বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন কর্মসূচী চলবে। তবে জরুরী সেবা চালু রাখা হয়েছে। আমাদের ৬ দফা দাবী না মানলে আগামীকাল থেকে কলেজের ৫১ থেকে ৫৫ ব্যাচের সকল শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করবে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, ইন্টার্ণরা ধর্মঘটে গেলেও হাসপাতালের অন্য চিকিৎসকদের সমন্বয়ে রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছে। ইন্টার্ণরা তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে আমাকে একটি স্বারকলিপি দিয়েছিল। আমি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে। ### ০৮-০৬-২৬ইং
রংপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে আবু হুজাইফা নামে ৫ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) সকাল ৯টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের হামের আইসোলেশন বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আবু হুজাইফা পঞ্চগড় তেঁতুলিয়ার আমির হোসেনের ছেলে। গত ২৯ মে হামের উপসর্গ থাকা ওই শিশুকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বুধবার শিশু আবু হুজাইফার মৃত্যু হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ আ.ন.ম তানভীর চৌধুরী। এদিকে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গ থাকা ১৬ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ৬ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন রয়েছে। গত ৩০ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গ থাকা ১ হাজার ৪০৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ৩৩৩ জন রোগী সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭০ জন রোগী। এছাড়া এ পর্যন্ত রংপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।